প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 20, 2026 ইং
প্রায় এক বছর পাঠদানহীন, তবু নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে প্রায় এক বছর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শামীমা নাসরিন মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও পাঠদানে অংশ নেন না। বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “ম্যাডামকে মাঝে মধ্যে স্কুলে আসতে দেখেছি, কিন্তু আমাদের কোনো ক্লাস নিতে দেখিনি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ওই শিক্ষিকা অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। তার পরিবর্তে ‘বদলি শিক্ষক’ হিসেবে পলাশ ও আশিক নামের দুই তরুণকে দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা হয়। গত ১৯ জুন বিদ্যালয়ে গিয়ে শামীমা নাসরিনকে পাওয়া যায়নি। হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে তার কোনো স্বাক্ষরও নেই। একই দিনে ওই দুই বদলি শিক্ষককেও বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শাজাহান বলেন, “শামীমা নাসরিন অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসেন। তার শারীরিক ও মানসিক কিছু সমস্যা রয়েছে। মাঝেমধ্যে এসে স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান, ক্লাসও খুব একটা নেন না। প্রায় এক বছর ধরে তার পরিবর্তে দুজন বদলি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শামীমা নাসরিনের বাড়িতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসতে রাজি হননি। ঘরের দরজার আড়াল থেকে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনারা স্কুলে গিয়ে কথা বলেন।”
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথমে দাবি করেন, ওই শিক্ষিকা নিয়মিত ক্লাস নেন। পরে তিনি একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। কখনও বলেন, শিক্ষিকা চিকিৎসকের কাছে গেছেন, আবার কখনও বলেন, তিনি চার দিনের ছুটিতে রয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তদন্ত শুরু হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও জবাবদিহিতার বিষয়গুলোও সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Bangabani24