প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 1, 2025 ইং
ঝালকাঠিতে পুলিশ পরিচয়ে মারধর ও লুটের অভিযোগ

হাসিবুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে বেঁধে মারধর করে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ মে) ভোর রাত চারটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ আনইলবুনিয়া গ্রামের বটতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান হারুন অর রশিদ (৬৫) থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে বটতলা বাজারে ছয় শতাংশ জমি কিনে ছয়টি টিনের দোকানঘর তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেন তিনি ও তার দুই ছেলে। এর পেছনেই বসতঘর তৈরি করে তারা বসবাস করছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই শ্যালক ফয়সাল ও একই গ্রামের ব্যবসায়ী নাসির খান সরোয়ারের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা এই লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ হারুনের। হারুন অর রশিদের ছেলে মেহেদী হাসান বলেন, ভোরে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র হাতে বাড়িতে প্রবেশ করে অন্তত ১৫ জন দুর্বৃত্ত। প্রথমেই তারা পরিবারের সব সদস্যকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ঘরের মধ্যে থাকা ৫টি মুঠোফোন ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ সময় বাইরে অবস্থান করা ৫০ জনের একটি দল তাদের ছয়টি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে মালামাল, টিন ও কাঠ ট্রাক ভরে নিয়ে গেছে। ছয়টি দোকানের মধ্যে ছিল মুদির দোকান, চায়ের দোকান, কসমেটিকসের দোকান ও মুরগির দোকান।দুর্বৃত্তরা তাঁর ছোট দুই বোনকে ব্যাপক মারধর করেছে। ঘটনার সময় ভোরের আলো ফোটেনি, কেবল ফজরের আজান হচ্ছিল। মেহেদী হাসান বলেন, সম্প্রতি ফয়সাল আহম্মেদ নামের একজনের কাছ থেকে বটতলা বাজারে ছয় শতাংশ জমি কেনেন নাসির খান নামের ঢাকার এক ব্যবসায়ী। গত ২২ এপ্রিল জমির দলিল করেই তাঁদের জমিকে নিজের কেনা সম্পত্তি দাবি করে উচ্ছেদের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন নাসির খান। মেহেদী হাসানের অভিযোগ নাসির খান তার ভাড়া করা লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।এ ব্যাপারে হারুন অর রশিদের শ্যালক ফয়সাল হোসেন বলেন, আমার পিতা আব্দুল গনি হাওলাদার আমাকে ৬ শতাংশ জমি লিখে দেন। আমি সবার ছোট হওয়ায় আমাকে লালন পালন করার জন্য আমার বোন রোজিনা বেগম ও তার স্বামী হারুন অর রশীদকেও ৬ শতাংশ জমি লিখে দেন। তিনি আমাকে লালন পালন তো করেননি বরং আমার ৬ শতাংশ জমি জোর পূর্বক দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করছেন। আমি বোন ভগ্নিপতির কাছে হাজার বার ধর্না দিয়েও জমি বুঝে পাইনি। বাধ্য হয়ে সম্প্রতি এ জমি স্থানীয় নাসির উদ্দিনের নিকট বিক্রি করেছি। অভিযোগের বিষয়ে নাসির খানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ৯৯৯–এ ফোন করা হলেও এক কিলোমিটার দূরের কাঁঠালিয়া থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে আড়াই ঘণ্টা পরে।
কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নের বটতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি(ভারপ্রাপ্ত) মো:সাইদুর রহমান জানান, বাজারের ব্যবসায়ী হারুন ও তার শ্যালকের মধ্যে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কে বা কারা ভাঙচুর করছে তা দেখেনি।
এই বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ওসি মং চেনলা বলেন, 'ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনবল কম থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে দেরি হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Bangabani24