প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 29, 2026 ইং
হাসিনার দুর্নীতির কালো মেঘ সরিয়ে বিএনপি সরকারের হাত ধরে নতুন দিগন্ত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: হাসিনার দুর্নীতির কালো মেঘ সরিয়ে বিএনপি সরকারের হাত ধরে নতুন দিগন্ত
এস এ মেরিন যুক্তরাজ্য
বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। গতকাল নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার এই প্রকল্পটিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম চালু করেছে। তবে এই কেন্দ্রটি চালু হওয়ার সাথে সাথে বিগত হাসিনা সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত ব্যর্থতার চিত্রগুলো আবারও জনসম্মুখে আলোচনায় উঠে এসেছে।
বিএনপি সরকারের অগ্রাধিকার ও নতুন পথচলা
নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই বিএনপি এই মেগা প্রকল্পটিকে স্থবিরতা থেকে মুক্তি দিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বিদ্যুৎ খাতের সংকট মোকাবিলা এবং জাতীয় উন্নয়নকে গতিশীল করতে গতকাল কেন্দ্রটি চালু করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত শাসনের দুর্নীতির বোঝা কাঁধে নিয়েও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কেন্দ্রটি বড় ভূমিকা পালন করবে। তবে একইসাথে প্রকল্পে হওয়া প্রতিটি অনিয়মের কঠোর তদন্তের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
হাসিনা আমলের দুর্নীতির মহোৎসব
সদ্য বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকার ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পকে তাদের তথাকথিত 'উন্নয়নের রোল মডেল' হিসেবে প্রচার করলেও, এটি ছিল মূলত লুণ্ঠনতন্ত্রের একটি আখড়া।
* বালিশ কান্ড থেকে মেগা লুটপাট: এই প্রকল্পের আওতায় আসবাবপত্র এবং সরঞ্জাম কেনাকাটায় যে আকাশচুম্বী দুর্নীতি হয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত। একটি বালিশের পেছনে হাজার হাজার টাকা ব্যয়ের ঘটনা ছিল দুর্নীতির হিমশৈলের চূড়ামাত্র।
* বিদেশে অর্থ পাচার: অভিযোগ রয়েছে, রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের বাজেট কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে কয়েক বিলিয়ন ডলার শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হাসিনার নীতিগত ব্যর্থতা ও ঋণের ঝুঁকি
প্রকল্পটি পরিচালনার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার একগুঁয়েমি বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
* একক দেশের ওপর নির্ভরতা: পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হওয়া ছিল একটি বড় কূটনৈতিক ব্যর্থতা। ফলে লেনদেনে জটিলতা তৈরি হয় এবং সুদের হার বেড়ে যায়।
* নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ হাসিনা সরকার বরাবরই অগ্রাহ্য করেছে। জননিরাপত্তার চেয়ে রাজনৈতিক 'শো-অফ'ই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
ঋণের বোঝা ও জনগণের চ্যালেঞ্জ
হাসিনা সরকারের নেওয়া এই বিশাল অংকের রুশ ঋণ এখন দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের এই ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বিদ্যুতের দামের বোঝা চাপতে পারে। বিএনপি সরকার এখন সেই লুণ্ঠিত অর্থের হিসাব মেলানো এবং একইসাথে প্রকল্পটিকে লাভজনক করার এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে।
উপসংহার
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়া দেশের জন্য একটি বড় অর্জন হলেও, এর পেছনে থাকা শেখ হাসিনার আমলের দুর্নীতির কলঙ্কিত অধ্যায় মুছে ফেলার উপায় নেই। বিএনপি সরকারের এই কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ, তবে সবার প্রত্যাশা—উন্নয়নের নামে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারতন্ত্র বা গোষ্ঠীস্বার্থ দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করতে না পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Bangabani24