ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভাণ্ডারিয়ায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর নিয়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব পাসের চেষ্টা, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 26, 2026 ইং
সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728
অলিউল্লাহ, বিশেষ প্রতিনিধি।

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৪ নম্বর ইকড়ি ইউনিয়নের বোথলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের স্বাক্ষর নিয়ে গোপনে আয়-ব্যয়ের হিসাব পাসের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রোববার দিনভর বিদ্যালয়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে শিক্ষকদের তোপের মুখে পড়ে তিনি নিজের কক্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক অবসরে যাওয়ার পর থেকে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২০ মাসের বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব শিক্ষকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে ওই সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে বর্তমান ক্যাশিয়ার দেবাশীষ সমদ্দারের পদত্যাগ ও নতুন ক্যাশিয়ার নিয়োগ সংক্রান্ত আংশিক লেখা একটি রেজুলেশন নিয়ে শিক্ষকদের স্বাক্ষর নেওয়া শুরু করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। কয়েকজন শিক্ষক স্বাক্ষর করার পর রেজুলেশনের ফাঁকা অংশে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

সহকারী শিক্ষক তাজিনুর বেগম বলেন, সকালে ক্যাশিয়ার পরিবর্তনের কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে আংশিক লেখা রেজুলেশনে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে দেখা যায়, রেজুলেশনের ফাঁকা অংশে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব লেখা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষকরা ওই রেজুলেশন বাতিলের দাবি জানান।

সহকারী শিক্ষক শিশির কুমার বলেন, বিষয়টি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সবাইকে জানালে শিক্ষকরা একজোট হয়ে রেজুলেশন বাতিলের দাবি জানান। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তা বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানান।

সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘আংশিক লেখা রেজুলেশনে আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে পরে সেখানে গোপনে আয়-ব্যয়ের হিসাব লেখার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি আমি প্রথম ধরতে পারি।’

শিক্ষকদের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সকাল ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে অবস্থান নেন। বিদ্যালয়ের ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে দীর্ঘ সময় পর সন্ধ্যার দিকে তিনি কক্ষ থেকে বের হন।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি রেজুলেশন নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসেছি। ফ্রি হয়ে এক ঘণ্টা পর বিস্তারিত কথা বলব।’

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। সোমবার উভয় পক্ষকে অফিসে ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangabani24

কমেন্ট বক্স