মো: ইফতে খায়রুল আলম সজিব,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদে শুরু হয়েছে দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব আর্চ স্টিল সেতুর নির্মাণকাজ। কেওয়াটখালী এলাকায় নির্মাণাধীন এই সেতুটি হবে সম্পূর্ণ নদীর পিলারবিহীন, যা শুধু দুই পাড়ের দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হবে না এবং নির্মাণ ব্যয়ও হবে তুলনামূলকভাবে কম।
দীর্ঘ পাঁচ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে শুরু হয়েছে সেতুর পাইলিং কাজ। গত ১১ মার্চ সকাল থেকে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে মাটির গভীরে বসানো হচ্ছে ১.৫ মিটার ব্যাস এবং ৪১.৫ মিটার দীর্ঘ স্টিল পাইল। এই পাইলগুলোর ওপরই নির্মিত হবে সেতুর কলাম ও স্প্যানসহ পুরো কাঠামো।
কেওয়াটখালী স্টিল আর্চ সেতুর স্টিল আর্চ অংশের দৈর্ঘ্য হবে ৩২০ মিটার এবং পুরো সেতুর মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ১ হাজার ১শ মিটার। মূল সেতুর প্রস্থ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ দশমিক ১৫ মিটার। দৃষ্টিনন্দন এই আধুনিক স্থাপনাটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং নগরীর একটি নতুন স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবেও চিহ্নিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সেতুর মাধ্যমে ময়মনসিংহের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ অগ্রসর হলো অঞ্চলটি।
জয়নুল আবেদীন পার্ক রক্ষায় মানববন্ধন, শজরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি
ময়মনসিংহ, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (বুধবার):
জয়নুল আবেদীন পার্কে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে এবং শহীদ জহুরুল হক হল রোড (শজর) এলাকার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এই মানববন্ধনের আয়োজন করে ময়মনসিংহের সাধারণ ছাত্র জনতা ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করেন, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পার্ক এলাকায় বিভিন্ন সময়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা, যা পার্কের পরিবেশ নষ্ট করছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।
তারা জোর দাবি জানান, শুধু আংশিক উচ্ছেদ নয়—শহরের সব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন পার্ক ও শহরের খোলা জায়গাগুলো প্রকৃত মালিক—জনগণের কাছে ফিরে আসে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সচেতন নাগরিকরা। তারা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন।
এই কর্মসূচি চলাকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল, তবে আয়োজকরা জানান, দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ময়মনসিংহ শহরের নাগরিক সচেতনতা ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।