শহিদুল ইসলাম, নওগাঁ প্রতিনিধি::
বর্তমানে ফেসবুক কেবল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি অনেকের ব্যক্তিগত, পেশাগত এবং এমনকি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দিন দিন এই প্ল্যাটফর্মে বাড়ছে হ্যাকিং, ফিশিং, প্রতারণা ও নানা ধরনের সাইবার অপরাধ। প্রতিদিনই দেশে-বিদেশে অসংখ্য ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে যাচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ ও সচেতন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে অনেকটাই নিরাপদ রাখা সম্ভব। কীভাবে? নিচে তুলে ধরা হলো ফেসবুক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ৭টি কার্যকর পরামর্শ।
১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
সাধারণ ও অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহারে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। নাম, জন্মতারিখ বা ধারাবাহিক সংখ্যা (যেমন ১২৩৪৫৬) ব্যবহার না করে বড় অক্ষর, ছোট অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন সমন্বয়ে একটি ইউনিক ও অন্তত ১২ অক্ষরের পাসওয়ার্ড গঠন করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
২. চালু করুন টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA)
টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ফেসবুকের নিরাপত্তা জোরদার করার একটি অন্যতম কার্যকর ফিচার। এটি চালু থাকলে পাসওয়ার্ড চুরি হলেও হ্যাকার আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না, কারণ লগইনের সময় দ্বিতীয় ধাপে আপনার ফোনে পাঠানো কোড দিতে হবে।
Settings → Security and Login → Use two-factor authentication থেকে সহজেই এটি চালু করা যায়।
৩. ক্লিক করবেন না সন্দেহজনক লিংকে
ইনবক্সে বা ফেসবুকে অনেক সময় “ফ্রি মোবাইল”, “কে আপনাকে ভালোবাসে?” টাইপের লিংক আসতে পারে। এদের বেশিরভাগই ফিশিং সাইট, যেখানে ক্লিক করলেই হ্যাকার আপনার তথ্য বা পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করতে পারে। ফেসবুকে কোনো অ্যাপ বা লিংকে ক্লিক করার আগে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
৪. লগইন এলার্ট চালু রাখুন
ফেসবুক অ্যাকাউন্টে যদি নতুন কোনো ডিভাইস থেকে লগইন করা হয়, তাহলে ব্যবহারকারীকে সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন পাঠায় ফেসবুক। এই ‘লগইন এলার্ট’ অপশনটি চালু রাখলে যেকোনো সন্দেহজনক প্রবেশ সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।
Settings → Security and Login → Get alerts about unrecognized logins থেকে এটি চালু করা যায়।
৫. প্রোফাইলের প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণ করুন
ব্যক্তিগত তথ্য যেমন মোবাইল নম্বর, ইমেইল, জন্মতারিখ, বন্ধুর তালিকা যেন ‘Public’ না থাকে। এসব তথ্য গোপন রাখার জন্য “Friends” বা “Only Me” অপশন ব্যবহার করুন।
৬. অপরিচিতদের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এড়িয়ে চলুন
সাইবার অপরাধীরা অনেক সময় ফেক আইডি ব্যবহার করে বন্ধুত্ব করতে চায়, যার মাধ্যমে তারা আপনার তথ্য সংগ্রহ করে অথবা প্রতারণা করতে পারে। তাই পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কাউকে বন্ধু তালিকায় যোগ না দেওয়াই উত্তম।
৭. নিয়মিত চেক করুন অ্যাক্টিভ সেশন
ফেসবুকের নিরাপত্তা বিভাগে গিয়ে আপনি দেখতে পারবেন কোথা থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করা হয়েছে। কোনো অচেনা ডিভাইস বা লোকেশন পেলে সঙ্গে সঙ্গে Log Out করে দিন।
Settings → Security and Login → Where You’re Logged In এ গিয়ে এ তথ্য পাওয়া যায়।
সাধারণ ব্যবহারকারীরা অনেক সময় মনে করেন, ‘আমার আইডিতে তো এমন কিছু নেই’, তাই হ্যাক হওয়ার ভয়ও তেমন নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সাইবার অপরাধীরা যেকোনো আইডি ব্যবহার করে ছদ্মবেশী কার্যক্রম চালাতে পারে। হ্যাকড আইডি ব্যবহার করে তারা করতে পারে চাঁদাবাজি, প্রতারণা এমনকি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডও।
ফলে নিজের ফেসবুক আইডি রক্ষা করা মানে এখন কেবল নিজের তথ্য নয়, বরং সমাজ ও নিরাপত্তার স্বার্থেই জরুরি এক দায়িত্ব।