কাগজে ১২০, শ্রেণিকক্ষে মাত্র ৭: নেছারাবাদের মৈশানী বালিকা বিদ্যালয়ে ‘উধাও’ ১১৩ শিক্ষার্থী, টানা দুই বছর এসএসসিতে ভরাডুবি।
অলিউল্লাহ, বিশেষ প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী রয়েছে ১২০ জন। শিক্ষক ১১ জন এবং কর্মচারী ২ জন। কিন্তু বাস্তব চিত্র যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাওয়া গেছে মাত্র সাতজন শিক্ষার্থী। ফলে কাগজে থাকা বাকি ১১৩ শিক্ষার্থী কোথায়—এ প্রশ্নে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল একজন শিক্ষার্থী, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি এবং নবম ও দশম শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল তিনজন করে শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এমন নগণ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এই সংকটের কারণ হিসেবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।”
এদিকে বিদ্যালয়টির ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলও চরম হতাশাজনক। এ বছর ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। এর আগে ২০২৫ সালে আট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল একজন। অর্থাৎ টানা দুই বছরে মোট ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুজন।
গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নেছারাবাদসহ পিরোজপুরজুড়ে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান, নথিতে ১২০ শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও নিয়মিত পাঠদানে অংশ নিচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যালয়ের নথিতে ১২০ শিক্ষার্থীর হিসাব কীভাবে বজায় রাখা হচ্ছে? নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যদি সাত-আটজনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকে, তাহলে কাগজে থাকা বাকি শিক্ষার্থীদের অবস্থান কোথায়—তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ওয়াশরুমের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে না পারার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, এসএসসি পরীক্ষায় অন্তত ১০ থেকে ১২ পরীক্ষার্থী দেখাতে হয়। এ কারণে পাশের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, “বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও আমাদের জানা আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হবে।”
একদিকে কাগজে-কলমে ১২০ শিক্ষার্থী, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত মাত্র সাতজন এবং এসএসসিতে ধারাবাহিকভাবে বিপর্যয়কর ফলাফল—সব মিলিয়ে মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মধ্যে
Bangabani24