সন্ধ্যার ভয়াল ভাঙনে বিলীনের পথে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ টাওয়ার
টাওয়ার ধসে পড়লে বিদ্যুৎহীন হতে পারেন পাঁচ ইউনিয়নের ৩০ হাজার গ্রাহক, শঙ্কায় লক্ষাধিক মানুষ।
বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার কাজলাহার গ্রামে সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনে ৩৩ হাজার ভোল্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক টাওয়ার এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। নদীর অব্যাহত ভাঙনে টাওয়ারটির আশপাশের মাটি প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় টাওয়ারটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজলাহার গ্রামের নদীতীরবর্তী এলাকায় স্থাপিত এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক টাওয়ারটি বানারীপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে নদীভাঙন টাওয়ারটির কাছাকাছি চলে আসায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যা নদীর স্রোত ও ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় টাওয়ারটির আশপাশের মাটি দ্রুত সরে যাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদীতীরের অংশ। ফলে টাওয়ারটির ভিত্তি কতটা নিরাপদ রয়েছে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ধসে পড়লে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈদ্যুতিক টাওয়ারটি নদীগর্ভে ধসে পড়লে বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী, ইলুহার, উদয়কাঠী, সৈয়দকাঠী ও বিশারকান্দি ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে ওই পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকসহ লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীনতার ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, বাজার-ব্যবসা, ক্ষুদ্র শিল্প ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, পানি সরবরাহ ও অন্যান্য জরুরি সেবাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
জিওব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙনের এমন পরিস্থিতিতেও দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে টাওয়ারটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের অপেক্ষা না করে এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, টাওয়ারটির চারপাশের ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরবর্তী অংশে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বাঁধ নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি টাওয়ারটির ভিত্তি ও আশপাশের মাটি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে স্থায়ীভাবে নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, এখনই অস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হলে নদীভাঙনের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ স্থাপনাটি রক্ষার সুযোগ রয়েছে। দেরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
দুর্যোগের আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, টাওয়ারটি ধসে পড়ার পর জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ লাইন পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করার চেয়ে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বেশি কার্যকর ও নিরাপদ। তাই বিষয়টিকে শুধুমাত্র একটি বৈদ্যুতিক টাওয়ার রক্ষার বিষয় হিসেবে না দেখে পাঁচটি ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জননিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার বিষয় হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা দ্রুত পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য।
এখন দেখার বিষয়, সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙনের কবল থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ ৩৩ হাজার ভোল্টের এই বৈদ্যুতিক টাওয়ারটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে একটি বৈদ্যুতিক স্থাপনা হারানোর পাশাপাশি বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন এলাকাবাসীর।
Bangabani24