একদিনেই চলতি বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু ও রোগী ভর্তি; মোট প্রাণহানি ১৩০, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৫ হাজারের বেশি
স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ মিরাজুল ইসলাম
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৯ জনের মৃত্যু এবং এক হাজারের বেশি নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৯ জন। চলতি বছরে একদিনের হিসাবে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি—দুই ক্ষেত্রেই এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩০ জন। একই সময়ে মোট ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ হাজার ২১৮ জন।
বিভিন্ন অঞ্চলে মৃত্যু
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তিনজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মারা গেছেন। এছাড়া খুলনা ও ঢাকা বিভাগে দুজন করে এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ
প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিভিন্ন হাসপাতালের ওপর চিকিৎসাসেবার চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংক্রমণের হার অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেলে শয্যা, চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া এবং গুরুতর অবস্থার রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বর কমলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জ্বর কমে যাওয়াকে সব সময় সুস্থতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। জ্বর কমার পরের সময়েও কিছু রোগীর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তীব্র পেটব্যথা, ঘন ঘন বমি, শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শ্বাস নিতে কষ্ট, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এডিস নিয়ন্ত্রণেই বড় চ্যালেঞ্জ
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিকল্প নেই। বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম প্রয়োজন। কারণ ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে আক্রান্ত ও গুরুতর রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির এই পরিস্থিতি ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত, সমন্বিত এবং কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
Bangabani24