ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মাটির ঘর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়: মুক্তাগাছার রাশিদা ইসলামের সাফল্যের গল্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2025 ইং
ছবি নিজস্ব প্রতিনিধি ছবির ক্যাপশন: ছবি নিজস্ব প্রতিনিধি
ad728
মো: ইফতে খায়রুল আলম সজিব, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :

প্রবল ইচ্ছাশক্তি, অদম্য মেধা ও কঠোর পরিশ্রম যে জীবনের প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পিঠাহাতি গ্রামের রাশিদা ইসলাম। দুল্লা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই মেধাবী শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ছিলেন মনোযোগী ও অসাধারণ প্রতিভাবান।
অভাব-অনটনের সংসারে বেড়ে ওঠা রাশিদা একটি মাটির ঘরে থেকে এবং কখনো কখনো পান্তা খেয়ে শিক্ষাজীবন চালিয়ে গেছেন। এত সীমাবদ্ধতার মাঝেও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাশিদারা চার ভাই-বোন। তাদের বাদবা দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন এবং প্রায় দুই বছর ধরে নিখোঁজ। সংসারের ভরণ-পোষণ ও রাশিদার পড়াশোনার দায়িত্ব মূলত কাঁধে তুলে নিয়েছেন তার বড় ভাই। এছাড়াও তার চাচারা পাহাড়ে কঠোর পরিশ্রম করে যেটুকু আয় করেন, তা দিয়েও সাহায্য করে আসছেন নিয়মিত।
রাশিদার মা জানান, অনেক কষ্ট করে মেয়েকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে সবসময় পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল। শিক্ষক-শিক্ষিকারা ওকে খুব ভালোবাসতেন এবং যথাসাধ্য সহযোগিতা করেছেন। আমি সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চাই, যেন আমার মেয়ের শিক্ষাজীবন থেমে না যায়।”
স্থানীয়রাও গর্বের সাথে বলেন, “রাশিদার মতো শিক্ষার্থীরা আমাদের সমাজের গর্ব। তাকে যেন কোনো অবস্থাতেই ঝরে পড়তে না হয়, সেই চেষ্টাই আমাদের থাকা উচিত।”
রাশিদা ইসলামের এই সফলতার গল্প মুক্তাগাছাসহ গোটা ময়মনসিংহবাসীর জন্য এক প্রেরণার উৎস। তার জীবন শিক্ষা দেয়—দৃঢ় মনোবল, পরিশ্রম এবং পারিবারিক ও সামাজিক সহযোগিতা থাকলে কোনো প্রতিকূলতাই জীবনের পথ রুদ্ধ করতে পারে না।
________________________________________

নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
Deleted

Deleted