ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠীতে সংখ্যালঘু পরিবারের ২০ শতাংশ পৈতৃক জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 20, 2026 ইং
নিজস্ব প্রতিনিধি ছবির ক্যাপশন: নিজস্ব প্রতিনিধি
ad728
বিশেষ প্রতিনিধি ::

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা গ্রামে সংখ্যালঘু একটি পরিবারের ২০ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি কৌশলে লিখে নিয়ে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হুমায়ুন গাজীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রভাব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি নেছারাবাদ উপজেলার মাদ্রা এলাকায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নারায়ণ চন্দ্র সিকদারের (৭৭) মেয়ে অঞ্জনা সিকদার অভিযোগ করে বলেন, তেতলা ও হারতা এলাকার সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের পূর্বপুরুষের প্রায় ২০ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তিই ছিল তাদের পরিবারের শেষ সম্বল। তার দাবি, স্থানীয় হুমায়ুন গাজী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র সিকদারের কাছ থেকে সম্পত্তিটি লিখে নেন। তবে জমিটি লিখে নেওয়ার বিপরীতে তাদের কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অঞ্জনা সিকদারের ভাষ্য, সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর থেকেই তাদের পরিবারের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা ওই এলাকা ছেড়ে নেছারাবাদ উপজেলার মাদ্রা এলাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরবর্তীতে তারা পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত অথবা জমির ন্যায্য মূল্য দাবি করলে হুমায়ুন গাজী তাদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এমনকি তারা বর্তমানে অন্য এলাকায় বসবাস করলেও সেখানে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অঞ্জনা সিকদার।

তিনি বলেন, “আমরা হুমায়ুন গাজীর হাত থেকে মুক্তি চাই। আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত চাই। জমি ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে অন্তত সম্পত্তির ন্যায্য মূল্য চাই।”

অঞ্জনা সিকদার আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অভিযোগ করেও তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। বর্তমানে তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছেন।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে হুমায়ুন গাজীর বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক ব্যবসাসহ আরও বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে হুমায়ুন গাজীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangabani24

কমেন্ট বক্স