ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মেহেন্দিগঞ্জের ভাষানচরে হতদরিদ্রের জমি দখলের অভিযোগ, তদন্তে লিজ বাতিলের আশ্বাস প্রশাসনের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 8, 2026 ইং
নিজস্ব প্রতিনিধি ছবির ক্যাপশন: নিজস্ব প্রতিনিধি
ad728
বিশেষ প্রতিনিধি:

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানাধীন ভাষানচর ইউনিয়নের দশহাজার বিঘা মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা এক হতদরিদ্র পরিবারের জমিতে প্রভাবশালীদের মদদে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত দাবিদারের অধিকার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে জানা যায়, ভাষানচর ইউনিয়নের রাওঘা গ্রামের দশহাজার বিঘা মৌজার ৯৫ নম্বর জেএল, ৫৯৪ নম্বর বিএস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৫১৬৭, ৫১৬৮ ও ৫১৬৯ নম্বর বিএস দাগভুক্ত ০.৪২০০ একর জমি প্রায় ৩০ বছর ধরে মৃত নাছির আলী বয়াতির ছেলে খালেক বয়াতি পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। পেশায় দিনমজুর খালেক বয়াতি বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী খালেক বয়াতি অভিযোগ করে বলেন, ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েকজন ব্যক্তি জমির একাংশ খাস জমি দাবি করে ভূমি অফিসের মাধ্যমে বন্দোবস্ত নেন। পরে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করায় তার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ এবং পাশের খালে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “এখন আমার মৃত্যুর পর কবর দেওয়ার মতো জায়গাও অবশিষ্ট থাকবে না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ভাষানচর ইউনিয়নের এক সাবেক জনপ্রতিনিধির পরোক্ষ সমর্থনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী পরিবার বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে উপজেলা ভূমি অফিসের নথি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর মো. রাসেল সিকদার, মো. জুয়েল হোসেন, শাহনাজ ও মো. আলাউদ্দিন হোসেনের নামে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর চারটি পৃথক মিসকেস (নং ৪৭, ৪৮, ৪৯ ও ৫০/২০২৫-২০২৬) দায়ের করা হয়।

পরে উপজেলা ভূমি অফিসের তৎকালীন সার্ভেয়ার মো. ফোরকানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ২০২৬ সালের ৩ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরদিন প্রতিবেদনসহ নথি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ সংশ্লিষ্ট মিসকেসগুলো অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এক বছরের জন্য ডিসিআরের মাধ্যমে জমির বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন।

তদন্তকারী সার্ভেয়ার মো. ফোরকানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে চান্দিনা ভিটা হিসেবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। তবে কেউ যদি নিজেকে প্রকৃত দাবিদার হিসেবে দাবি করেন, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট লিজ বাতিল করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangabani24

কমেন্ট বক্স